বেদ যজ্ঞ
সম্মেলনঃ—১৭/ ১০/ ২০১৬ স্থানঃ—ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পঃ বঃ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদ যজ্ঞ করবে সর্বত্যাগী
শঙ্করের জীবনকে আদর্শ রূপে ধারণ করে, তবেই দেখবে নির্জীব অলস প্রকৃতির জীবন তেজময়
হয়ে উঠবে।]
মানব জীবন পেয়েছো দুঃসাধ্য ব্রত যাপন করে
মহাসত্যকে জানার জন্য। দুঃখবরণের মাধ্যমে অসীম আনন্দলাভ করতে হলে ক্ষুদ্রত্ব ও
সীমাবদ্ধ সংকীর্ণতা বিসর্জন দিতেই হবে। আমাদের উপাস্য শিব ত্রৈলোক্যের অধীশ্বর
হয়েও গৃহত্যাগী যোগী ও পরহিতৈষণার দ্বারা আত্মভোলা মনের অধিকারী। আর আমরা তাঁরই
ভক্ত হয়ে নির্জীব অলস প্রকৃতির ভদ্রস্বভাবের শান্ত মানুষ। আমাদেরকে সবায় মাড়াইয়া
চলে গেলেও কোন প্রতিবাদ করতেও শিখেনি। এই নিরীহ নির্জীব অবস্থা দেখে মরুভূমির ঝড়
এসে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করলেও কোন প্রাচীর দিয়ে সেই ঝড়কে রুখে দেবার জন্য
ব্যবস্থা করি নি, এমন কি শিবের শক্তিশালী ত্রিশূলটা নিয়েও আমরা ঘর থেকে বের হয়নি।
ক্ষুদ্র, সঙ্কীর্ণ গণ্ডিবদ্ধ জীবনের মধ্যে সুখনিদ্রা- রসালো খাদ্য আর খোশগল্প
পাওয়াকেই এখন শঙ্কর ভক্তরা আদর্শ মানব জীবন আখ্যা দিয়ে থাকেন। সেই সাথে চৈত্র ও
শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় কোনোপ্রকারে গঙ্গাজল ঢালতে পারলেই শিবভক্ত হয়ে উঠেন।
গেরুয়া পোশাক পরিধান করে শিবের মাথায় যারা জল ঢালছেন—তাঁরা কেনো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে
নিজেদের সনাতন রূপ দেখাচ্ছেন না? কেনো সনাতন বেদের তেজ নিয়ে জেগে উঠছেন না? ওঁ
সত্যম শিবম সুন্দরম ওঁ নমঃ শিবায়।


