[ বেদ যজ্ঞ করে সব পাপ- তাপ মুছে ফেলে সহজ সরল পথে জ্ঞানী হয়ে উঠো সবায়।]
বেদ যজ্ঞ বেদি আমাদের সবার হৃদয়েই রয়েছে। সেই যজ্ঞ বেদিতে বসে আমরা যখনি
একবার ধ্যান- চিন্তা- মনন করবো তখনি আমরা এই পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে অষ্টসিদ্ধি লাভ
করে জ্ঞানী হয়ে উঠতে পারবো অতি সহজ পথে—কোন মঠ –মন্দির- গির্জা –মসজিদের গুরুর
কাছে না গিয়েও। আমাদের অন্তর বেদকে আমাদেরকেই খুলতে হবে—আমাদের এই পবিত্র মন্দিরকে
আমাদেরকেই পবিত্র করে রাখতে হবে- যাতে বাইরের আবর্জনা এসে এর উজ্জ্বলতা মলিন না
করতে পারে। এক টুকরো মেঘের ফালি যেমন বিশাল সূর্যকে ঢেকে ফেলতে পারে তেমনি সামান্য
অহংকার বা আবর্জনা এই হৃদয় মন্দিরের বেদ সূর্যকে ঢেকে ফেলতে সক্ষম। তাই অন্তরের
ভক্তি ও প্রেমের বারি দিয়ে এই যজ্ঞবেদিকে সদায় পবিত্র রাখতে পারলেই সেখানে আর
আবর্জনার স্তূপ জমে বেদসূর্যকে ঢেকে রাখতে পারবে না। অন্তর মন্দিরের এই বেদসূর্যই
হচ্ছেন অনন্ত ব্রহ্ম- ভগবান- গড- ঈশ্বর – আল্লা নামে আমাদের কাছে পরিচিত। এখান
থেকেই সৃষ্টি হয়ে চলেছে মানবসভ্যতা—এখান থেকেই সৃষ্টি হয়ে চলেছে বিজ্ঞানের সভ্যতা—এই
বেদসূর্যই যুক্ত রয়েছে অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের সাথে। তাই মূলের সাথে যখনি আমরা যুক্ত
হয়ে জ্ঞান সাধনায় লিপ্ত থাকতে পারবো তখন আর আমাদের পতনের ভয় থাকবে না। ওঁ শান্তি
শান্তি শান্তি।



