বেদ যজ্ঞ সম্মেলনঃ—১৯/ ১০/ ২০১৬ স্থানঃ –
ঘোড়শালা* মুর্শিদাবাদ* পঃ বঃ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদ যজ্ঞ করে সৎ পথের জ্ঞানলাভ করলেই মানুষ মহান
হয়ে উঠে, তখন টুকরো টুকরো চিন্তাগুলি বিশালত্বে স্থির হয়ে যায়।]
আমরা বেদ যজ্ঞ করি না তাই মূর্তি পূজার রহস্য জানি না। অনেকেই সত্য না জেনে ও শাস্ত্রের গভীরে
প্রবেশ না করেই এই মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে কথা বলেন। আবার এগুলিকে
টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে ফেলতেও দ্বিধা করেন না। বিভিন্ন দেব-দেবতার মূর্তিগুলি হলো
মানুষের টুকরো টুকরো চিন্তার রূপের প্রতিফলন। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সৎ চিন্তার রূপ
বা মূর্তিই মানুষকে বিশাল করে তোলে। যখন মানুষ বেদ যজ্ঞের দ্বারা বেদ ভগবানের নিকট
থেকে সৎ পথের জ্ঞান পেয়ে যান তখন অন্তরের টুকরো টুকরো চিন্তার মূর্তিগুলি
বিশালত্বের ঢেউয়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় এবং এক বিশাল মূর্তিতে স্থির হয়। এই বিশাল
মূর্তিকে ভেঙ্গে ফেলার সাধ্য তখন আর কারও হয় না। এই বড়ত্বের মহিমা ঘোষণা করাই তখন
সাধকের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বিন্দু থেকেই সিন্দুর উৎপত্তি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র
মূর্তির চিন্তা থেকেই ব্রহ্মরূপের উৎপত্তি। ক্ষুদ্রকে বাদ দিয়ে কেউ বিশালত্বের
অভিমুখে যাত্রা করতে পারে না। তাই বেদ যজ্ঞ ক্ষুদ্র গণ্ডীর মধ্যে থেকেই যে মানুষ
শুরু করে দেয়, সে ঈশ্বরের নিকট থেকে সৎ কর্ম – ধর্ম – জ্ঞানের পথ লাভ করে
বিশালত্বের সাথে যুক্ত হবার দিকে এগিয়ে চলে আপন গতিতে। ওঁ তৎ সৎ।



