বেদ যজ্ঞ সম্মেলনঃ—১৫/ ১০/ ২০১৬ স্থানঃ—ঘোড়শালা*
মুর্শিদাবাদ* পঃ বঃ
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদ যজ্ঞ করেই ভারতলক্ষ্মীকে এই মাটিতে
স্থিরভাবে ধরে রাখার আমাদেরকে সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।]
বেদে লক্ষ্মীদেবী হচ্ছেন ধন- সম্পদের প্রতীক।
আদ্যশক্তি মহামায়া কর্মভেদে বিভিন্নরূপ ও নাম গ্রহণ করেন। দৈবশক্তি বলে সকলের
হিতসাধন করতে গিয়ে দেব- দেবীদের বিভিন্নরূপে মর্তে আবির্ভাব ঘটে। মালক্ষ্মী সাগর
মন্থনকালে সাগর থেকে উঠে আসেন। মায়ের বাহন পেঁচা। এই বাহন দিনের আলোতে কিছুই দেখতে
পায় না। তাই রাতে মাকে নিয়ে মর্তলোকে ভ্রমণে বের হতে হয়। তিনি কেনো মাকে নিয়ে
সন্তানদের কাছে রাতের অন্ধকারে আসেন? মা লক্ষ্মী বললেন—সন্তানদের অন্ধকার থেকে
মুক্ত করে আলোর জগতে না নিয়ে যেতে পারলে কেউ আমার গুপ্ত ধনের সন্ধান পাবে না ও
আমার দেওয়া ধনের মূল্য বুঝতে পারবে না। আমি তাই তোমাকে যেমন অন্ধকারেও সবকিছু
দেখার দৃষ্টি দান করেছি তেমনি আমি মানব সন্তানদেরকেও অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আলোর
জগতে নিয়ে যেতে আসি। আমার আলোতেই তেজ, আর আমার তেজই হচ্ছে মানুষের ধন- সম্পদ-
ঐশ্বর্য – শ্রী – মান যশ। আমিই বেদের অদিতি দেবতাদের মাতা আদ্যাশক্তি মহামায়া,
আমিই সবার লক্ষ্মী, এই জগতের সবার পালন করে চলেছি খাদ্যের যোগান দিয়ে। আমার ধন-
রত্ন- বৈভব পূর্ণিমার চন্দ্রের ন্যায় শোভা পায় এই পৃথিবীর বুকে। যারা বেদ যজ্ঞ করে
একনিষ্ঠা সহায়ে অন্তরের জ্ঞানজ্যোতিকে দর্শন করতে সচেষ্ট হয়, তারাই আমার
লক্ষ্মীরূপ দেখে তৃপ্ত হয় এই পূর্ণিমার আলোতে। আমি সবার চিদাকাশে চন্দ্ররূপে
শোভিত, আমিই মহাকাশে অবস্থান করি মহাবিষ্ণুর অঙ্গ জ্যোতিঃ হয়ে। আমিই জগতের সীতা-
সাবিত্রী- রাধারূপী সাত্ত্বিক বিবেকজ্ঞান। আমিই আমার প্রিয় সন্তানদের সত্য,
ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি যুগের অতীত করে কালজয়ী ত্রিকালজ্ঞ ঋষি করে তুলি। আমিই জগতের
সবার স্বামী, অমাত্য, সুহৃদ, কোষ, রাষ্ট্র, দুর্গ ও শক্তি হয়ে অবস্থান করি। আমিই
কমলে কামিনী লক্ষ্মী হয়ে রাষ্ট্রের প্রহরী হয়ে রাষ্ট্রকে রক্ষা করি। জয় মা
লক্ষ্মী।



