Home » » বেদ যজ্ঞ সম্মেলন -- ২২/ ০৫/ ২০১৬

বেদ যজ্ঞ সম্মেলন -- ২২/ ০৫/ ২০১৬



বেদ যজ্ঞ সম্মেলনঃ – ২২/ ০৫/ ২০১৬                                             আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ-- [ বেদ যজ্ঞ করে অন্তর জগতের রাজত্বকে ধনী করে তোলো –  আর জেনে রেখো বাইরের জগতের ধনীর ধন যদি মানুষ তৈরীর কাজে না লাগে তবে তা অভিশাপ।]
 বেদ যজ্ঞ করে অন্তর জগতের ধনে ধনী মানুষ এই জগতে বিরল। পৃথিবীর বুকে বাইরের জগতে ধনী লোকের অভাব নেই। কারণ এই জগতে ধনী হবার পথ খুব সহজ। যে যত অপরকে বঞ্চিত করার কৌশল রপ্ত করতে পারবে সে তত এই জগতের ধনে ধনী হবে। তাই ধনীরা আরও ধনী হয়ে চলেছে অপরকে বঞ্চিত করে মুনাফার পথে গিয়ে। তাদের ভাববার  সময় নাই—কেন তারা এই ধন সঞ্চয় করছে? তাদের ধন যদি মানুষ তৈরীর কাজে না লাগে্‌ তবে যে একদিন পৃথিবী অমানুষে পূর্ণ হয়ে যাবে—এই চিন্তা করার তাদের সময় নাই।  পৃথিবী যদি অমানুষে পূর্ণ হয়ে যায় ধনীর ধন কী কাজে লাগবে? সেই ধন অভিশাপ হয়ে উঠবে তাদের জীবনে। ধনী হও কিন্তু অজ্ঞানী হইও না। ধনী হয়ে শয়তানকে জীবনসঙ্গী যারা করে তারা তো অমানুষ তৈরী করার কারখানা তৈরী করে। আজ শিক্ষাখাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে পৃথিবীর সব দেশে। পেশাগত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের উন্নতি করছে - ইট-পাথরের সভ্যতা গড়ছে তা আমরা সবায় চোখে দেখতে পাচ্ছি। বিজ্ঞানের উন্নতি ঘটিয়ে মানুষের জীবনকে সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে ভরিয়ে তুলছে তাও আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু মানুষ সবকিছু পেয়েও যেন মূল্যহীন হয়ে পড়ছে বিচ্ছন্নতাবাদী, মৌলবাদী, আতংকবাদী ইত্যাদি সংগঠনের কাছে। তাদের হাতে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে এমন সব অস্ত্র চলে গেছে যে মানুষের জীবন প্রতি পদে পদে বিপন্ন। কারা কেন এই সব সংগঠন গড়ে তুলল? নিশ্চয় এই সব সংগঠনের সাথে যারা যুক্ত তারা মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শয়তানকে ছায়াসঙ্গী করেছে এবং শয়তানী বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে মানবিক মুল্যবোধকে মানব সমাজ থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে। এই সব সংগঠনকে কারা অর্থ সম্পদ জোগাচ্ছে? ধনী দেশের ধনী লোকেরা আরও ধন বৃদ্ধি করার জন্য এই শয়তানী বুদ্ধিকে কাজে লাগাচ্ছে। যখন এই ধনী ব্যক্তিরা বুঝতে পারবে মানুষের চামড়া পড়ে মানুষের ধর্ম মানব ধর্ম ছাড়া দ্বিতীয় হতে পারে না তখনি সব শয়তানী বুদ্ধি লোপ পাবে এবং তখন দেখা যাবে এই ধনীদের ধন মানুষ তৈরীর কাজে ব্যয় হতে শুরু করেছে। পৃথিবী থেকে সব মানুষের মন গড়া ধর্ম লোপ পাবে—সারা বিশ্বে মানুষের ধর্ম হবে বিশ্বমানব ধর্ম বা সনাতন বা চিরাচরিত ধর্ম। যে ধর্মের সৃষ্টি বা ধ্বংস নাই কালের কবলে। ঈশ্বরের দেওয়া মানুষের চামড়ার পোশাক ত্যাগ করে আর কি কোন ধর্মের পোশাক পড়লে তাকে মানুষ বলা যেতে পারে? মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়। মানুষ তৈরি করার জন্য হাজার হাজার ধর্ম বা মতের সৃষ্টি হতেই পারে কিন্তু তারা কেউ সাম্প্রদায়িক হতে পারে না বা সেই ধর্ম বা মতে আবদ্ধ হয়ে থাকতে পারে না মানুষ হয়ে গেলে। তাই যখনি ধনীরা সব ছেড়ে দিয়ে মানুষ তৈরীর জন্য তাদের ধন ব্যয় করবে তখন দেখা যাবে বিশ্বে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মযোগীতে পৃথিবী ভরে যাচ্ছে। তাদের ধনে পৃথিবী গর্বিত হবে এই কর্মযোগীদের পেয়ে। বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী যে দেশ যত তৈরি করতে পারবে সেই দেশ তত উন্নত হবে সাহিত্য-বিজ্ঞান- দর্শন –শিক্ষা- ব্যবসায়- বাণিজ্যে। তাই তোমরা ধনীদের কাছে যাও ও তাদের ধন বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী তৈরি করার কাজে লাগাবার জন্যে আবেদন জানাও। ধনীদের ধন সার্থক হবে বেদ যজ্ঞ করে  নিজে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে যখন বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী তৈরি করার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করবে। জয় বেদ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়।  


Facebook CommentsShowHide
Disqus CommentsLoadHide