বেদ যজ্ঞ সম্মেলনঃ—১৯/
০৫/ ২০১৬ আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ--[ বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে কিভাবে ধর্ম—অর্থ—কাম—মোক্ষকে জীবনের সাথে যুক্ত করে জীবনকে অমৃতময় করে তোলা যায়।]
বেদ যজ্ঞ জীব করে চলেছে নিজের ধর্ম মেনে নিজের
প্রাণকে দেহ মধ্যে ধরে রাখার জন্যে প্রকৃতির বশে থেকে। তাই জীবের কর্মটাই হচ্ছে বেদের ধর্ম। এই বেদের ধর্ম বাস্তব ছাড়া নয়, আর বাস্তবের কথা বলতে গেলেই সেগুলি রাজনীতির বা
সমাজনীতির কথা বলে মনে হবে। কারণ বেদের ধর্মই হচ্ছে
জাতীয় জ্ঞান- মানবিক মুল্যবোধ- নৈতিক জ্ঞান ও আত্মিক বা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দ্বারা
উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। এই নক্ষত্রই ধরে রেখেছে নিজের জ্ঞানশক্তি দ্বারা ব্রহ্মজগতকে।
তাই মানব সমাজের বুকে রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি ইত্যাদি নীতিগুলি বেদ নির্ভর হয়ে ধর্মনীতির বিরোধী নয়, একটি অপরটির পরিপূরক। এই ধর্মের মাধ্যমে নিজের স্বরূপ
উদ্ঘাটন করাটাই অর্থ। নিজের স্বরূপ যেদিন সে জানতে পারবে সেদিন সে বুঝতে পারবে
জীবনের অর্থ কি ও এর মূল্য কোথায়? সেদিন সে দেখতে এক পরমপিতা বা ঈশ্বর ছাড়া আর
দ্বিতীয় কিছু নেই। তখন সে পরমপিতাকে জানার কামনায় লিপ্ত হয়ে তাঁর প্রেমে হাবু-ডুবু
খেতে খেতে তাঁকে পাবার জন্য এগিয়ে যাবে। এই পরমপিতাকে পাবার কামনাটাই হচ্ছে কাম।
আর এই কামনার বশবর্তী হয়ে তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন করলেই অর্থাৎ বিশ্ববোধ অন্তরে
জাগলেই মোক্ষলাভ। তাই বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে বিশ্বমানব শিক্ষার
কর্মী হয়ে বীর হনুমানের ন্যায় ঈশ্বর প্রেমী হতে হবে তবেই জীবনের সাথে স্বাভাবিক
ভাবে ধর্ম- অর্থ – কাম ও মোক্ষ যুক্ত হয়ে তারাই রামসেতু বন্ধন করে অমৃতলোকে নিয়ে
যাবে। তখনি জীব নিজেকে দেখতে পাবে অমৃতের সন্তান রূপে। ব্রহ্মাণ্ডজুড়ে এক পরমপিতার
অমৃতের সন্তানরা কিভাবে সন্তানদল গঠন করে তাঁর অধীনস্থ বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী
হয়ে বেদ যজ্ঞ করে চলেছে তখন তাঁরা উপলব্ধি করতে পারবে এবং সমস্ত সংস্কার ছিন্ন করে
মোক্ষ লাভ করবে তাঁর সাথে যুক্ত হয়ে। জয় শ্রীরাম




