বেদ
যজ্ঞ সম্মেলনঃ-১৮/ ০৫/ ২০১৬ আজকের আলোচ্য
বিষয়ঃ--[ বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে সৎ সঙ্কল্প গ্রহণ করে জ্ঞানী হও -- জ্ঞানীর মধ্যেই কেবল সত্যের প্রকাশ ঘটে।]
বেদ
যজ্ঞ করেই মনকে বশে আনতে হয়। এই বেদ যজ্ঞকে সফল করার জন্য সৎ সঙ্কল্পকে দৃঢ় করে
ধরে রাখতে হবে এক সত্যের উপর। সত্যের প্রকাশ ঘটে কেবল ব্রহ্ম জ্ঞানীর অন্তরে। তাই সত্যকে জানতে গেলে অবশ্যই ব্রহ্ম জ্ঞানী হতে হবে। সৎ পথে চলে সত্যের সাধনা যে
করে সেই ব্যক্তিই জ্ঞানী হয়ে উঠে। জ্ঞানের সাধনা আর সত্যকে জানার গবেষণা করার
মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্রহ্মান্ড। কিন্তূ মানুষ সত্যের
উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েও সত্যকে কেন জানতে পারে না? সত্যকে না জানতে পারার কারণ,
মানুষের শত্রু রয়েছে নিজের অন্তরেই। এই শত্রু মানুষের অন্তরে শয়তান রূপে ছদ্মবেশে কাজ করছে। যতক্ষন পর্যন্ত
মানুষ শয়তানকে দমন করতে না পারে, ততক্ষন পর্যন্ত মানুষ নিজেকে মানুষরূপে জানতে
পারে না। নিজেকে মানুষরূপে জানতে না পারলে নিজের দিব্য স্বরূপের প্রতি মানুষের
জ্বলন্ত বিশ্বাস আসে না। মানুষের অন্তরে দিব্য শক্তির জাগরণ না ঘটলে মানুষ ঈশ্বরকে
নিজের ছায়াসঙ্গী রূপে দেখতে পায় না। মানুষ ঈশ্বরকে ছায়াসঙ্গী রূপে না পেলে কে তাঁর
অন্তরে জ্ঞানের বাতি জ্বালাবে? আর জ্ঞানের বাতি অন্তরে না জ্বললে কোনও মানুষ
সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না। সত্যকে উপলব্ধি করার সাথে সাথে মানুষ ঈশ্বরের জ্ঞাব-বিজ্ঞানের ঘরের সাথে যুক্ত
হয়ে যায়। তখন মানুষের অন্তরে সত্য জ্ঞানের
প্রকাশ-বিকাশ ঘটে। এই সত্য কেবল জ্ঞানীর
অন্তরে প্রকাশিত হয়। সেই জ্ঞানীর নিকট থেকে সাধারণ মানুষ সত্য বার্তা লাভ করে
থাকে। মানব সমাজে এই জ্ঞানীরাই হচ্ছে মানুষের পথ প্রদর্শক। পৃথিবীর বুকে হাজার
হাজার পথ প্রদর্শক এসেছেন। কেউ কিন্তূ নুতন কোনও কথা বলে যান নি। সকলেই একই পথের
নিশানা দিয়ে গেছেন। একই জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঘর থেকে সত্য উপকরণ সংগ্রহ করে মানুষের
জন্য প্রদান করেছেন। দেশ-কাল-পাত্র ভেদে সেগুলি বিভিন্ন রূপ নিয়ে প্রকাশ
পেয়েছে। মানুষ যাতে প্রকৃত সত্য না জানতে পারে তার জন্য শয়তানদের সংগ্রাম চিরকাল অব্যাহত আছে পৃথিবীর বুকে। এই
জ্ঞানীরা পৃথিবীর বুকে এসে মানুষকে সাবধান বাণী শুনিয়ে যান ও সত্যের পথ দেখিয়ে
যান। তাঁরা আসেন তাই এখনো পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, নইলে শয়তানে পূর্ণ হয়ে যেতো এই
পৃথিবী। তাই মানুষকে বেদ
যজ্ঞ করতে হবে সৎ সঙ্কল্প নিয়ে নিজের অন্তরের শয়তানকে চিরতরের জন্য তাড়াবার
নিমিত্তে। বর্তমানে মানব জীবন হয়ে উঠেছে সৎ সঙ্কল্প বিহীন। বৈদিকযুগে যাগ-
যজ্ঞ-পূজা ইত্যাদিকে কর্ম বলা হতো। তাই যে কোন কর্ম করার আগে মানুষকে সৎ সঙ্কল্প
গ্রহণ করতে হতো। সেই সঙ্কল্প থেকে কেউ কর্ম শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকতো না –
ফলে তাদের জীবন সদা সফলতায় পূর্ণ হয়ে থাকতো। তারা অন্তরের এই সঙ্কল্প নিয়ে নির্ভয়
চিত্তে বেদ যজ্ঞ- সাধনা- ধ্যান ইত্যাদি ক্রিয়া কর্ম করে বিজ্ঞানের আলোতে উজ্জ্বল হয়ে যশ- খ্যাতি-
শ্রীবৃদ্ধি লাভ করতো। তাদের তেজ আকাশ- বাতাস- মাটিকেও পবিত্র করে তুলতো। তারা
ঈশ্বরের জ্ঞান- বিজ্ঞানের ঘরের সাথে নিজের স্মৃতি শক্তিকে যুক্ত করে নিজের অন্তর
বেদ খুলে যে জ্ঞান পরিবেশন করতো তা ছিল আগুনের ন্যায় পবিত্র। তাই জনশ্রুতি আছে
বৈদিক যুগে ব্রাহ্মণদের মুখ দিয়ে আগুন বের হতো। হরি ওঁ তৎ সৎ।




