[বেদ যজ্ঞ করে মা যশোদার ন্যায় শ্রীকৃষ্ণকে আপন করে নাও নিজের জীবন পথে।]
অতি সহজ-সরল নিয়ম নিষ্ঠাকে মেনে চলাটাই হচ্ছে
মানব ধর্ম। এমন কোন নিয়ম- নিষ্ঠা এ ধর্মের অধীনে পড়ে না যা নিজের জীবনকে ধ্বংসের
পথে ঠেলে দিয়ে অপরের জীবন পথে বাধার সৃষ্টি করবে। ধর্মের অনুশাসন দিয়ে জীবনকে
বেঁধে রাখা ভালো কিন্তু এর অনুশাসনের দড়ি কত বিশাল হলে জীবনকে বেঁধে রাখা যায় তা
নিরূপণ করতে গিয়ে, মা যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে দড়ি দিয়ে বাঁধতে গিয়ে অনুভব করেছিলেন।
শ্রীকৃষ্ণের জীবন যত ধর্মের অনুশাসনের দড়ি দিয়ে বাঁধতে চেষ্টা করছেন, ততই বড় দড়ির
প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তাঁকে বাঁধার জন্যে। শেষে সমস্ত অনুশাসন ছিন্ন করে, সহজ- সরল
ভাবে পুত্র স্নেহের বন্ধনে তাঁকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করেন। তাতেও যখন বেঁধে রাখতে
পারলেন না তখন মধুরভাব অবলম্বন করে রাধাকে তাঁর জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করে বেঁধে
রাখার চেষ্টা করেন। রাধাভাবও যখন এই শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বিশালত্বকে বেঁধে রাখতে
সক্ষম হলনা, তখন তিনি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সকলের সঙ্গে সংযুক্ত করে দিয়ে ভগবান
শ্রীকৃষ্ণকে অনুভব করলেন ও নিজের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন করে
জীবনে তৃপ্তি লাভ করলেন। ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।




