[ বেদ যজ্ঞ করবে অন্তরে দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে তবেই অগ্নি শিখা জ্বলে উঠবে।]
বেদ
যজ্ঞের যারা পুরোহিত হবে তাঁদেরকে দৃঢ়চেতার প্রেমিক- প্রেমিকা হতেই হবে, নচেৎ এই
পবিত্র যজ্ঞের অগ্নি প্রবল শিখা নিয়ে প্রজ্বলিত হবে না। তাই সঙ্কল্প করতে হবে—জীবনে
কোন কাজে হারবো না। কোথাও পিছিয়ে পড়বো না। যে কোন কাজে এগিয়ে চলাটাই হবে আমাদের
জীবনের লক্ষ্য। ২) আমি আমার দেহকে মন্থন করে বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে জ্ঞানের বাতি
জ্বালাবোই। সুখ- দুঃখ, ঝড়- ঝঞ্ঝাকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলাটাই হবে আমার জীবনের বেদ
যজ্ঞ ও ব্রত। ৩) আমি ধন উপার্জন করবো কিন্তু অসদুপায়ে কখনও তা করবো না—সেই ধন সবার
মঙ্গলের জন্যে বেদ যজ্ঞে উৎসর্গ করবো। ৪) আমি সদায় সৎ চিন্তা করে সৎ পথে নিজের
আত্মাকে জাগ্রত করে ধরে রাখবো এবং নিজ আত্মাকে বেদ যজ্ঞে উৎসর্গ করে পরমাত্মার
সাথে সবার মঙ্গলের জন্যই সেতু বন্ধন করবো। ৫) সদায় প্রেমের জগতে অবস্থান করে মনের
পবিত্রতা রক্ষা করে সবায়কে ভালবাসবো। ৬) বেদ যজ্ঞ করে দেহ- মনকে সুস্থ রাখবো পরের
কল্যাণে তা উৎসর্গ করার জন্যে। ৭) বেদ যজ্ঞের মাধ্যমেই নিজ আত্মাকে সর্বভূতে দেখবো
ও সর্বভূতকে নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে সদায় বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে
বিশ্ববোধে জাগ্রত থেকে বসুধার সবায়কে আত্মীয় জ্ঞানে ধরে অন্তরে ধরে রাখবো। ৮) সদায়
নিজ আত্মার পূজা করে পরমাত্মার সাথে সেতু বন্ধন করে তাঁর সাথে যুক্ত থেকে তাঁর
শক্তিবলেই সবার মঙ্গল কামনায় লিপ্ত থাকবো। ৯) নিজেকে পরমাত্মার প্রিয় করে গড়ে
তুলবো বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে এবং এই জীবনকে বেদময় করে সবার জন্যে উৎসর্গ করবো। ১০)
বেদ যজ্ঞ করেই নিজের আত্মার প্রকাশ- বিকাশ ঘটাবো ও নিজের অন্তরের বেদ সূর্যকে
জাগ্রত করে সেই আলোতেই সমাজ গড়ে তুলবো। বেদ বৃক্ষকে ফল- ফুল- পাতা- ডাল –পালা-
সৌরভে পূর্ণ করে তুলবো –যাতে এই বৃক্ষতলে এসে সবায় আনন্দে বিশ্রাম করতে পারে ও এই
বৃক্ষের অমৃত ফল ভক্ষণ করে অমৃতময় জীবন লাভ করতে পারে। ১১) সবার অন্তরে বেদ যজ্ঞের
মাধ্যমে জ্ঞানের বাতি জ্বালাবো—যাতে আর কেউ অন্ধকার গুহায় বাস না করে। ১২) সবায়কে
বিশ্বমানব শিক্ষায় দীক্ষা দিয়ে বিশ্ববোধে জাগ্রত করবো ও সারা বিশ্বে শান্তি-
সাম্য- ঐক্য ও সত্যের বাণী পৌঁছাতে থাকবো। ১৩) আত্মজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞানের প্রকাশ
নিয়ে নিজে সদায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বিরাজ করবো—সেই সাথে সেই আলোতে সবায়কে উজ্জ্বল
হয়ে থাকার জন্যে আহ্বান করবো। ১৪) সবার অন্ধকারময় জীবনে আলো আমি জ্বালাবোই এই
প্রতিজ্ঞা নিয়েই সদা পথ চলবো। ১৫) বেদ যজ্ঞের দ্বারাই সকলকে সৎ- সত্য- সুন্দর ও
জ্যোতির্ময় রূপে ফুটে উঠার জন্যে আহ্বান করবো। ১৬) সারা জীবন সবার শিষ্য বা ছাত্র
হয়ে থাকবো—এই পৃথিবীকে কর্মভূমি ও জ্ঞানপীঠ জেনে কর্মযোগী ও জ্ঞানযোগী হয়ে থাকবো।
১৭) নিদ্রাযোগে নিজেকে কখনো আচ্ছন্ন রাখবো না সদায় বেদ যজ্ঞ করে জাগ্রত থাকবো—যাতে
শয়তান এসে পার্থিব জগতের চাকচিক্যময় স্বপ্ন দেখাতে না পারে। ১৮) নিজ আলোতে সবার
প্রাণের প্রদীপ জ্বালাবো—সবায়কে পরমাত্মার সাথে যুক্ত হবার সুযোগ করে দেওয়ার
জন্যেই বেদ যজ্ঞ করে সেতু বন্ধন করে সেই সেতু সবার জন্যে খুলে দিবো। ১৯) নিজের
কর্তব্য কর্ম সময় মতো শেষ করে দৈনন্দিন
লিপি মেনে চলবো--- সেই সাথে অহংবর্জিত জীবনকে ধরে রাখবো। ২০) সদায় পরমানন্দলোকে
অবস্থান করে একসাথে সবায়কে নিয়ে চলবো – একসুরে সবায় কথা বলবো – এক মন হয়ে সবায়
চিন্তা করে সবার মঙ্গল কামনা করবো। ২১) এক ঈশ্বর ছাড়া কারো অধীনে থাকবো না—কাউকে
নিজের অধীনে রাখবো না – সবার অন্তরে এক ঈশ্বর শক্তি ও প্রেরণা দিয়ে চলেছেন সেই কথা
আমরা ভুলবো না। ২২) বেদ যজ্ঞ করে নিজেদের ইচ্ছা শক্তি- কর্মশক্তি ও জ্ঞানশক্তিকে
সদায় শুভদিকে চালিত করবো ও এই শক্তির দ্বারা সমস্ত অশুভ শক্তিকে মানব সমাজ থেকে
ধ্বংস করবো। ২৩) বেদ যজ্ঞে বাধা দানকারী আসুরিক শক্তিকে আমাদের সঙ্ঘবদ্ধ শুভশক্তি
দ্বারা চিরতরের জন্যে নির্মূল করবো। পুনঃ এই পৃথিবীর বুকে বেদের যুগ ও সত্যযুগের
প্রতিষ্ঠা করার জন্যে এই মহাসংগ্রাম থেকে কখনো পলায়ন করবো না। ওঁ শান্তি শান্তি
শান্তি।



