[ বেদ যজ্ঞ করে জেনে নাও কেনো গণপতি বা গণেশের পূজা করতে হয়।]
পরব্রহ্মের সাথে মানুষকে যুক্ত হবার জন্যে চারটি
ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রথম ধাপ হল ব্রহ্ম বা জ্ঞান ভাগ, দ্বিতীয় ধাপ হল প্রকৃতি
ভাগ, তৃতীয় ধাপ হল গণপতি- গণেশ বা মানব ভাগ আর চতুর্থ ধাপ হল অমৃত বা শ্রীকৃষ্ণ
ভাগ।
প্রথম দুটি ধাপ অতিক্রম করে মানুষের শুরু হয়
গণপতি বা গণেশ খণ্ডের কাজ। আমরা যে গণেশ মূর্তির পূজা করি তাঁর মস্তক হচ্ছে
ঐরাবতের মস্তক যা মহাকাশের শুঁড়ের ন্যায় যেন জলধারা বিশিষ্ট মেঘ। এই ধাপে আসার
সাথে সাথে মানুষের অন্তরে তাই জ্ঞানের বর্ষণ হতে থাকে। এই সময় মানুষের কাজ রাজার
মতো। তিনি তাঁর জ্ঞানের দ্বারা সমাজকে আলোকিত করতে থাকেন—তাঁর লেখনি বন্ধ করার
শক্তি কারও থাকে না—বেদের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে সবায়কে মিলিত করার জন্যে। তাই
মানুষ গণেশের পূজা করে মানবিক সত্তায় ধীর-স্থির থেকে অন্তর বেদ খুলে দেওয়ার জন্যে
এবং কর্ম ও জ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়ে অমৃত ভক্ষণ করতে করতে অমৃত সাগরের অভিমুখে
এগিয়ে যাবার জন্যে। এই অবস্থায় তাঁকে পৃথিবীর কোন কর্মের বন্ধন বেঁধে রাখতে পারে
না। ওঁ গাং গণপতয়ে নমঃ।


