[ বেদ যজ্ঞ করে নিজের জীবন ঈশ্বরের চরণে উৎসর্গ কর।]
যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী তারা নিজের জীবন
নিজের কাছে রাখে না। তারা নিজের জীবনকে ঈশ্বরের চরণে উৎসর্গ করে মুক্তির আনন্দে
ঘুরে বেড়ায়। তাদের জীবন নিজের কাছে থাকে না সেজন্য তাকে নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি করে না।
চাহিদাশূন্য ও অহংশূন্য হয়ে ঈশ্বর যা করতে বলেন তাই আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে করে যায়
মান সম্মান—অপমান- দুঃখ –ব্যাথা বেদনাকে সাথে নিয়ে। কেউ তাদেরকে চিনতে পারে না-
ঈশ্বরের দাস রূপে তাই তাদের উপর আসে সবথেকে বেশী সামাজিক আঘাৎ --কিন্তু সেই আঘাৎ
গুলি কি তাদেরকে স্পর্শ করতে পারে ?
ঈশ্বরের দাসত্ব করার চাইতে বড় কাজ দুনিয়াতে আর
মানুষের জন্য থাকতে পারে না। জ্ঞানীরা সংসারের দাসত্ব করে না তারা সংসারে থেকেও
কেবল ঈশ্বরের চরণে নিজেকে উৎসর্গ করে তাঁর দাসত্ব করে। সংসারের ভাল-মন্দ তাই
তাদেরকে স্পর্শ করতে পারে না।
তোমরা যদি ঈশ্বরের জন্য সংসার করো –তবে তোমাদের সংসার নিয়ে চিন্তার কোন
কারণ থাকতে পারে না। তার কারণ তোমাদের অভিভাবক স্বয়ং তিনি। তাঁর সংসার তিনি ঠিক
গুছিয়ে চালাবেন কোন অমঙ্গল আসতে দিবেন না। আর যদি তোমরা নিজের সংসার করো—তবে তিনি
কেন দায়িত্ব নিবেন? বাপ থেকে ছেলে ভিন্ন হয়ে পড়লে- বাবার দায়িত্ব ছেলের সংসারের
প্রতি থাকে না। তাই তোমরা ঈশ্বরের সংসারে থেকে কেবল বেদ যজ্ঞ করে যাও—তাতেই
তোমাদের সব কল্যাণ নিহিত রয়েছে। ওঁ হরি ওঁ তৎ সৎ।



