[ বেদ যজ্ঞ করে নিজ আত্মাকে মুক্ত করে সদায় জ্ঞানের রাজত্বে বিরাজ কর।]
যতক্ষণ নিজের গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ থাকবে
ততক্ষণ তুমি স্বার্থপর আত্মা হয়ে নিজ রক্ত- মাংসের দেহের মধ্যেই নিজেকে দেখতে
পাবে। যখনি তুমি নিজেকে সকলের মঙ্গলের জন্য উৎসর্গ করবে তখনি তুমি মহৎ আত্মাতে
পরিণত হবে। তখন তোমার বেদ যজ্ঞকালে জ্ঞান ও সম্পদের অভাব হবে না। তুমি সকলের ও
সকলে তোমার হয়ে যাবে। সর্বভূতে তুমি নিজেকে ও সর্বভূতকে তোমার নিজের মধ্যে দেখতে
পাবে- এই বিশ্বরূপ নিয়েই বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে তোমরা বেদ যজ্ঞ চালিয়ে যাও।
নিজ
স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে লোক ঠকানোর ব্যবসায় করতে যাবে
না বা নাম কেনার জন্যেও কোন কাজ করতে যাবে না। নিজের জ্ঞান বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে
সকলের মঙ্গলের জন্য প্রতিষ্ঠান গড়বে—সেখানে যেন সকলে নিজ নিজ জীবনকে সুন্দর রূপে
গড়ে তুলতে পারে বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে। তোমরা পৃথিবীর বুকে যত মহামানব আছে তাঁদের
জীবনী পড়ে দেখো কেউ বেদ যজ্ঞ না করে একটিও মঙ্গলময় কথা বলতে পারেন নি—তাঁরা সকলেই
আগে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে বেদ যজ্ঞ করার অনুমতি নিজ নিজ ঈশ্বরের নিকট থেকে
লাভ করেছেন, তারপর লোকশিক্ষার জন্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তোমাদের চোখে মহান হয়ে
আছেন – তোমরাও তাঁদের পথ ধরে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে বেদ যজ্ঞ করে যাও নিজ
আত্মাকে মুক্ত করার জন্যে। ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি।


