[ বেদ যজ্ঞ করে তোমরা প্রাণের উপাসনা দ্বারা জীবন দর্শন পাঠ কর।]
বেদ
যজ্ঞ করে জেনে নাও—পৃথিবীর সমস্ত শাস্ত্র গ্রন্থ একই উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে যুগে
যুগে। মানব দেহ মধ্যে যে প্রাণ আছে তাকে জানতে হবে যে কোন পথ ও মতে স্থির হয়ে।
একমাত্র প্রাণকে জানার জন্য সারা পৃথিবীতে এত ঢাক-ঢোল বাজছে—সেটা আজ আর কেউ বুঝতে
পারছে না। বুঝতে পারবেই বা কি ভাবে—এত সুক্ষ, এত শক্তিশালী, এত বিচিত্র, এত
জ্ঞানী, এত ভয়ংকর, এত দ্রুত গমনশীল ইত্যাদি গুণের পুরুষ তো বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আর
কেউ নাই। এই অদ্বিতীয় প্রাণকে কেবল জানার জন্যই যে মানুষ এত শাস্ত্র পাঠ করছে, তা
আর অনেকেই উপলব্ধি করতে পারছে না। ফলে শাস্ত্র পাঠ করে অনেকে পণ্ডিত হয়ে নিজেকে
শাস্ত্রবিদ পণ্ডিত জ্ঞানী অভিমানী ভাবছেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না শাস্ত্র পাঠ করে
বা মন্ত্র –তন্ত্র মুখস্থ করে প্রাণকে জানা যায় না। এই প্রাণকে ঘিরে যে আটটি নিকৃষ্ট
উপাদান দেহ মধ্যে অবস্থান করছে তাদের অতীত হয়ে তাকে জানতে হয়। তাই একজন শাস্ত্রবিদ
পণ্ডিত নিজের অহংকার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে প্রাণের আলো দেখতে সক্ষম হন না যতক্ষণ না
তিনি এই অহংকার ত্যাগ করতে পারছেন। অপরপক্ষে একজন নিরক্ষর ব্যক্তি যিনি কোনদিন
শাস্ত্র পাঠ করেন নি, তিনি কেবল নিজের জীবনকে শাস্ত্র ভেবে, তাকেই অধ্যয়ন করে
চলেছেন এবং সেখান থেকেই প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতার দ্বারা জ্ঞান অর্জন করে জীবন দর্শন
পাঠ করে চলেছেন—তিনি এই প্রাণকে উপলব্ধি করে তার সম্বন্ধে অতিসহজে সঠিক পথের
সন্ধান দিতে পারেন। এরাই কেবল প্রাণের আলো পেয়ে প্রাণকে আলোর পথ দেখাতে পারেন। ওঁ
শান্তি শান্তি শান্তি।


