[বেদ যজ্ঞের মাধ্যমে বীজমন্ত্র- দীক্ষা- গুরুদক্ষিণা কি তা জেনে নিয়ে জেগে উঠো ব্রহ্মজ্ঞানী হয়ে।]
যে শব্দকে আশ্রয় করলে নিজেকে বিকশিত করে
বিশ্বের সবকিছুকে জানা ও বোঝা যায় সেই শব্দকেই বীজমন্ত্র বলে। এই বীজমন্ত্র
প্রত্যেক চেতন সত্তায় অবস্থান করছে বলেই জীব সবকিছুকে জানতে ও বুঝতে পারছে। দীক্ষা
অর্থ নবজন্ম। দীক্ষা ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়। মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে তাকে
আলোর পথে নিয়ে যেতে পারেন একমাত্র গুরু। গুরু যে মন্ত্র দান করেন—সেটাকেই বীজ
মন্ত্র জেনে ভক্তি- শ্রদ্ধা সহকারে অন্তরে গেঁথে নিয়ে জপ- তপ- স্মরণ – মননের
মাধ্যমে তাঁকে বেদবৃক্ষে পরিণত করতে হবে। এই বেদবৃক্ষই হলো মানুষের সিদ্ধি-
মুক্তি- নির্বাণ রূপ ফল- ফুল ও জীবনের সৌরভ। গুরুর নিকট থেকে দীক্ষা নিয়ে সেই
বীজকে বিরাট মহীরূহে বা বেদবৃক্ষে পরিণত করতে পারলেই গুরু দক্ষিণা সাঙ্গ হল।
পুত্রের পিতৃঋণ তখনই সার্থক যখন সে নিজে পিতৃত্ব লাভ করে পিতার বংশ রক্ষা করে।
তেমনি শিষ্যের গুরুঋণ তখনই সার্থক হয় যখন সে গুরুত্বে উন্নীত হয় গুরুর ন্যায়
বেদবৃক্ষ হয়ে। এটাই হল শিষ্যের শ্রেষ্ঠ দক্ষিণা। ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি।



