[ বেদ যজ্ঞের মাধ্যমেই তোমাদেরকে মানবিক মুল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করতে হবে।]
পৃথিবীর বুকে মানবিক মুল্যবোধের অবক্ষয় শুরু হলে
সর্বত্র পাপাচার, অনাচার, কদাচার ও অত্যাচার শুরু হয় অমানবিক পথ ধরে। মানুষ নিজের
সনাতন ধর্ম হারিয়ে ফেলে সৎ ও সত্যের পথ ধরে চলতে ভুলে যায়। অমানবিক ও অসৎ পথধারী
মানুষেরা রাজত্ব বিস্তার করে সর্বত্র। রাজা- মন্ত্রীরা ভুলে যান নিজেদের
প্রতিশ্রুতির কথা। তাঁরা আর নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি রূপে তুলে ধরতে পারেন না
প্রজাদের কাছে। পৃথিবীর সম্পদ মানুষ। মানুষের সম্পদ মানবিক জ্ঞান। এই জ্ঞানের
মধ্যেই মানুষের সৎ- সত্য- সুন্দর ও জ্যোতির্ময় রূপ লুকিয়ে থাকে। এই সত্যকে না
জানার জন্যে অসত্য সর্বত্র মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠছে। মানুষের জন্য ধর্ম – ধর্মের জন্য
মানুষ নয়। এই সত্যকে না জানার জন্য মানুষ সত্য- মিথ্যা- ভাল- মন্দ জ্ঞান হারিয়ে
ফেলে দুর্বল হয়ে পড়েছে ও একশ্রেণির মানুষের শিকার হয়ে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এই
শ্রেণির মানুষের সংখ্যাধিক্যের কারণে সাধু ও সত্যজ্ঞানীরা কোথাও স্থান পান না।
মুখোশ পড়ে অভিনয় করে চলেছে বিশ্বব্যাপী এক শ্রেণির শয়তান। এই শয়তানদের ধ্বংস করার
জন্যই বেদ যজ্ঞ শুরু হয়েছে। এই বেদ যজ্ঞের দ্বারাই পবিত্র আত্মাদের সংগঠিত করে
মিথ্যাকে বাতিল করে মহাসত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিশ্বমহাযুদ্ধ সংগঠিত করতেই এই
বেদ যজ্ঞ। এই যজ্ঞ কুণ্ড থেকেই প্রতিনিয়ত মহাসত্য উঠে এসে মিথ্যাকে চূর্ণ –বিচূর্ণ
করে বাতিল করতে থাকবে ও মানুষের সনাতন মানবিক রূপ প্রতিষ্ঠিত করতে থাকবে—সারা
বিশ্বে শান্তি- সত্য- ঐক্য ও সাম্যের প্রতিষ্ঠার জন্য। সবায় বিশ্বমানব শিক্ষার
কর্মী হয়ে এই বিশ্বের সকলকে আত্মীয়তার সুত্রে বাঁধতে বাধ্য হবে। মানাত্মার সাথে
পরমাত্মার এই সেতু বন্ধনে সকলকেই অংশ গ্রহণ করতে হবে প্রকৃতির নিয়মে। ওঁ শান্তিঃ
শান্তিঃ শান্তিঃ।



