[বেদ যজ্ঞ করে সদগুরুর আশ্রয়ে থেকে সদায় মুক্ত চিন্তা করতে থাকো।]
সদগুরু জন্ম থেকেই সিদ্ধ অবস্থা নিয়েই আসেন।
তিনি সর্বসংস্কার মুক্ত- সর্বমালিন্যমুক্ত। এখানকার কোন কর্ম- ধর্ম- আকর্ষণ-
মায়ামোহ তাঁকে আচ্ছন্ন করতে পারে না। আর এখানে সাধনা করে তাঁকে সিদ্ধি- মোক্ষ-
মুক্তি ইত্যাদি লাভ করতেও হয় না। তিনি নিত্য শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত আত্মা হয়ে বিচরণ
করেন। আর যারা এখানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন, তাঁদের সাধনাপূর্ব জীবনের
অল্পবিস্তর মালিন্য, গণ্ডীবদ্ধ চিন্তা, স্বার্থপরতা, ঈর্ষা-লোভ- লালসা- মায়া –মোহ –হীনতা
– দীনতার ছাপ অন্তরে থেকেই যায়। কিছুতেই সাধনপূর্ব জীবনের স্মৃতি অন্তর থেকে মুছে
ফেলতে পারেন না। তাই তাঁদেরকে আবার নব জন্ম নিতে হয় পূর্ব স্মৃতিকে মুছে ফেলার
জন্যে। আর যারা সদগুরু হয়ে আসেন তাঁদের কাছে কাউকে যাবার প্রয়োজন হয় না। তাঁরাই ছুটে যান নিজের
শিষ্যের কাছে। ফুল ফুটলে যেমন ভ্রমরাকে ডাকতে হয় না সে আপন মনে কোথা থেকে ছুটে আসে
তার হদিশ ফুল জানে না। তেমনি সদগুরু সবার অন্তরের কথা
জানেন -- হৃদয় মন্দিরে জ্ঞানের প্রদীপ প্রজ্বলন করার জন্যে ব্যবস্থা করলেই তিনি
এসে উপস্থিত হউন। তিনি উপস্থিত হয়েই শিষ্যের হৃদয় মন্দিরের প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়ে
অসীম অনন্তের সাথে তাঁকে যুক্ত করে দেন জ্যোতির দ্বারা। শিষ্য তখন যাত্রা শুরু
করেন মহাসাগরের পথে নিজেকে যুক্ত করার জন্যে বেদ যজ্ঞ করতে করতে। ওঁ শান্তিঃ
শান্তিঃ শান্তিঃ ওঁ।।


